
চাটমোহর প্রতিনিধি, ডেইলি পাবনা:
বিএনপির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও চরম একনিষ্ঠতার এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর অবহেলায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মকবুল হোসেন প্রামানিক, যিনি এলাকায় ‘মকবুল ফকির’ নামে পরিচিত। পেশায় ভিক্ষুক হলেও রাজনৈতিক আদর্শের জায়গায় তিনি ছিলেন অবিচল—আওয়ামী লীগের কারও কাছ থেকে ভিক্ষা গ্রহণ করা তো দূরের কথা, প্রলোভন ফিরিয়ে দিয়েছেন নির্দ্বিধায়। অথচ জীবনের এই সায়াহ্নে এসে বিএনপি সমর্থক এই বৃদ্ধের খোঁজ রাখছেন না কেউ।
চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নবীন পশ্চিমপাড়া গ্রামে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মকবুল ফকিরের করুণ পরিস্থিতি। জীর্ণশীর্ণ পাটকাঠি ও পলিথিন দিয়ে ঘেরা ঘরের বারান্দায় তিন হাতের একটি ভাঙা চৌকিতে শুয়ে দিন কাটছে তার। তোশক বা বালিশ বলতে কিছুই নেই, নেই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থাও। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরের পর বছর চৌকিতে শুয়ে থাকতে থাকতে পিঠে ও পায়ে ঘা হয়ে গেছে তার। অর্থাভাবে চিকিৎসাও জোটেনি।
পরিবারের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেবল বিএনপি সমর্থক হওয়ার কারণে সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এই পরিবারকে। স্ত্রী মালেকা খাতুন ও শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই মেয়েকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। অসুস্থ স্বামী ও মালেকা খাতুনের নিজের অসুস্থতায় এখন সংসারের একমাত্র সম্বল শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় মেয়ে মর্জিনা খাতুন। স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত মর্জিনা ভিক্ষা করে যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়েই কোনোমতে চলছে চারজনের এই করুণ সংসার।
এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতেও নিজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি মকবুল ফকির। বার্ধক্যের কারণে কথা বলতে কষ্ট হলেও প্রতিবেদকের সামনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শহীদ জিয়া অমর হোক। খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ। আমি বিএনপি করি। বিএনপি ছাড়া কখনো কাউকে ভোট দিইনি। আমি বিএনপি করেই মরতে চাই।”
মকবুল ফকিরের একনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরে তার স্ত্রী মালেকা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী কট্টর বিএনপি সমর্থক। বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলের নাম তিনি সহ্য করতে পারতেন না। বিএনপি করার কারণেই বিগত সরকারের সময় আমরা কোনো সরকারি সুবিধা পাইনি। আমাদের দুই মেয়েই প্রতিবন্ধী। বড় মেয়ের ভিক্ষার ওপর ভিত্তি করে এখন আমাদের সংসার চলছে।”
এ বিষয়ে হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “মকবুল বিএনপির একনিষ্ঠ ও কট্টর সমর্থক। একবার স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা তাকে এক মণ চাল দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে দলে যোগ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সেই দান প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের পরিচয় পেলে কারও কাছ থেকে ভিক্ষা পর্যন্ত নিতেন না। তিনি ও তার পরিবার সত্যিই খুব কষ্টে আছেন।” তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা কিংবা সহানুভূতি পেলে এই বৃদ্ধ ও তার প্রতিবন্ধী মেয়েদের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতো।