পাবনার সুজানগর উপজেলায় মোজাহার বিশ্বাস (৫৪) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহীনকে প্রধান আসামি করে আমিনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (০১ জুলাই) সন্ধায় আমিনপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল রাতে নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন বিশ্বাস বাদী হয়ে আমিনপুর থানায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে। মামলা অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিহত মোজাহার বিশ্বাস সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানার রানীনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাণীনগর এলাকার মৃত আছির উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের গ্রুপের কর্মী।
মামলার বাদী নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ভাইকে তো আর পাবো না। তাই তাকে যারা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওসব অমানুষদের ফাঁসি চাই। জীবদ্দশায় যেন তাদের ফাঁসি দেখে যেতে পারি। আর যেন কারও মায়ের বুক খালি না হয়। হত্যায় যারা জড়িত আছে তাদের বাহিরে কারও নামে মামলা দেওয়া হয়নি।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রানিনগর ইউনিয়নের রানিনগর ক্লাব এলাকার শুকুর মোল্লা ও আমজাদ বিশ্বাসের বাড়ির রাস্তার মাঝে পৌঁছালে এজহার বর্ণিত আসামিগণ নিহত ভিক্টিম মোঃ মোজাহার আলী বিশ্বাসকে হত্যার পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক চাপাতি, রাম দা, কুড়াল, ধামা, জি, আই পাইপ, হাতুড়ি, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে পথরোধ করে এবং ২ নং আসামি চিৎকার করে তার সঙ্গীয় আসামিদের বলতে থাকে যে আমাগেরে নেতা শাহীনুজ্জামান শাহীন ভাইয়ের(১ নং আসামী) হুকুম, শুয়োরের বাচ্চারে ধইরা ক্লাব ঘরে নিয়া জবাই করে মেরে ফেল। এ কথা শুনা মাত্র ভিক্টিম নিহত মোঃ মোজাহার আলী বিশ্বাস প্রাণ বাঁচানেরা জন্য দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। এরপর তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে তারা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন রানীনগর এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আলামিন মিয়া (৩৫) নামে শাহীন গ্রুপের একজন নিহত হন। এ ঘটনার জেরে ওই এলাকার বেশ কিছু বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। হামলায় মোজাহার বিশ্বাসসহ ওহাব গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হন। মোজাহার বিশ্বাসের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার ৬ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মামলার প্রধান আসামি শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, এটি একটি কাল্পনিক মামলা। যার কোন সত্যতা নেই।