উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নে ২৩শ ১৮ কার্ডে দুস্থদের খাদ্য সহায়তার (ভিজিএফ) চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) থেকে বিতরণ শুরু করে ঈদের আগেই বিতরণ সম্পন্ন করার কথা।
স্থানীয়রা জানান, বিপুল পরিমানের চাউল বিতরণ না করে নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান ইউনিয়নের গোয়ারিয়া বাজারে তার ব্যক্তিগত গোডাউনে মজুত রাখেন। রবিবার (১৬জুন) সন্ধ্যা থেকে ভ্যান যোগে কয়েক বস্তা করে চাউল বিভিন্ন জায়গায় যেতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের।
গোডাউন থেকে চাউল যাবার কথা জানাজানি হলে গোডাউনের আশেপাশে লোকজন ভীড় করতে থাকলে গোডাউনে থাকা চেয়ারম্যানের চেয়ারম্যানের লোকজন গোডাউন আটকে সটকে পড়েন। অভিযোগ পেয়ে ভোর রাতে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ ওই গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৬৫ বস্তা চাউল জব্দ করেন।
একাধীক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভ্যানে করে ৩০ কেজি বস্তার ভিজিএফ এর চাউল গোডাউন থেকে বের কওে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবেই দুস্থদের চাউল নিয়মের বাইরে তার ব্যক্তিগত লোকদের দেয়া হয় এবং পরে সেগুলো বিক্রি করেন।
আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ মিথ্যা যন্ত্র দাবি করে চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, দেড় থেকে দুই শত লোক চাউল নিতে আসে নাই। তাদের চাউল গোডাউনে রাখা হয়েছে। ঈদের পরে সুবিধাভোগীদের ডেকে বিতরণ করা হবে। এটি ব্যক্তিগত গোডাউন নয়, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য অনুমোদিত গোডাউন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, অভিযান চালিয়ে ৬৫ বস্তা চাউল গোডাউনে পেয়েছি। যে চাউল গুলো ঈদের আগেই বিতরণ শেষ করার কথা ছিল। চেয়ারম্যান গোডাউনটি ইউনিয়ন পরিষদের দাবী করলেও স্বপক্ষে কোন কাগজ দেখাতে পারেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, ৬৫ বস্তা চাউল জব্দ করে ইউপি সচিব, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রেখে আসা হয়েছে। আত্মসাতের অভিযোগসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।