
পাবনার সদর উপজেলার সিংগা উত্তরপাড়া গ্রামের রাবেয়া গ্রামের আর সবার মতই সাদামাটা ও সহজসরল ও লেখাপড়ায় ভালো ছিল।
কিন্তু হঠাৎ করেই তাড়াহুড়া করে তার পরিবার তার বিয়ে দিয়ে দেন এবং ভালোকরে পাত্রের কোন খোজ খবরও নেন না। রাবেয়া এই বিয়ে আটকাতে পারেনি। বিয়ের অল্প কয়দিন পরেই রাবেয়ার স্বামী মোটা অংকের যৌতুক দাবী করে। স্ত্রী হিসেবে রাবেয়ার স্বামী কোন খোজ খবর নেয়নি, সবসময় আমার থেকে দুরে থাকত। এক পর্যায়ে রাবেয়ার স্বামী রাবেয়াকে তার বাবার বাড়ীতে রেখে চলে যায় এবং রাবেয়ার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। রাবেয়া তার সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন অফিসের সহায়তার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এর ফলে রাবেয়া মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। যেখানেই সমাধানের জন্য গিয়েছে সেখানেই বাধাগ্রস্থ হয়েছে। কারন হিসেবে রাবেয়া মনে করে তার স্বামী পেশায় একজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, স্বামীর মামা একজন সিনিয়র সচিব, ভাইয়ের ছেলে সহকারী জজ এবং তারা পারিবারিকভাবে শক্তিশালী। অসহায় রাবেয়া তার বাবার বাড়ীতে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকে।
এমন সময় রাবেয়া তার গ্রামের একজনের কাছ থেকে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির (সেল্প ) সম্পর্কে জানতে পারে ও ব্র্যাক পাবনা সদর অফিসে আসেন এবং তার দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায়ের জন্য একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর অফিস থেকে আহবান পত্র পাঠানো হলে ২য় পক্ষ (রাবেয়ার স্বামী) অফিসে এসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির কর্মী তাদের মাঝে আইনগত দিকগুলো ব্যাখ্যা করার পর দুই পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের মতামত নিয়ে আপোষ মিমাংসার উদ্যোগ নেয়। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে উভয় পক্ষ আপোষ মিমাংসায় আসতে সক্ষম হয় এবং রাবেয়ার স্বামী রাবেয়াকে দেনমোহর ও ভরণপোষণ বাবদ ৫,৫০০০০/= (পাঁচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা নগদ পরিশোধ করেন, এবং খোলা তালাকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়।
রাবেয়ার মা পাশে থেকে বলেন, “বাবারে আমার মেয়ের অশান্তির সময় কত মানুষের কাছে গেছি। কেউ সমাধান করতে পারে নাই। তোমরা আছিলা বলে আমার মেয়ে এখন শান্তিতে আছে, টাকা গুলো একটা ব্যাংকে ডিপিএস করে রেখেছি। দোয়া কইরো মেয়েটা যেন ভালো কিছু করতে পারে”। ব্র্যাকের এই সহযোগীতার কথা আমরা সারা জীবন মনে রাখবো।