
পাবনার আমিনপুর থানার বাঁধের হাট বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চালের টিন খুলে মালামাল চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, হাট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রূপপুর ইউনিয়নের খানপুরা চরপাড়া এলাকার মো. রইচ উদ্দিন শেখ (৪৮), পিতা মো. আব্দুস সালাম শেখ, বাঁধের হাট বাজারে শরিষা, গম, কালাই, পাট ও ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে ব্যবসা করেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে দোকানে এসে তিনি দেখতে পান, দোকানের চালের টিন খোলা। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, বেশ কিছু মালামাল নেই। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ১১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা চোরেরা দোকানের চালের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। অভিযোগে চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ৩০ বস্তা মটর কালাই, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা, উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় বাঁধের হাটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রাতের বেলায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চাল খুলে মালামাল নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল? বাজারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাতের পাহারা কিংবা নিয়মিত নজরদারি থাকলে এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ কতটা থাকত—এ নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার পরিচালনায় হাট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। অথচ নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি চুরির ঘটনা প্রতিরোধে আমিনপুর থানা পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাজারে রাতের নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ও নিয়মিত পুলিশি টহল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. রইচ উদ্দিন শেখ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয় এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বাঁধের হাটের ব্যবসায়ীরা।