শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল ৮ টার দিকে কবি বন্দে আলী মিয়ার কবর যিয়ারত করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে আল আমানা মিলনায়তনে কবি ফররুখ আহমদের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়।
পাবনা সংস্কৃতি কেন্দ্রর সভাপতি এসএম সোহেলের সভাপতিত্বে ও পরিচালক আখতার উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, দৈনিক জীবনকথার সম্পাদক ও পাবনা সংস্কৃতিকেন্দ্রের উপদেষ্টা আবু সালেহ মোহাম্মদ আব্দু্ল্লাহ। তিনি বলেন, ফররুখ আহমদ শুধু ইসলামি রেনেসাঁর কবি নন, তিনি বাংলা সাহিত্যে মানবতাবাদের এক পূর্ণ নবজাগরণ সৃষ্টি করেছেন।”ফররুখ আহমদ শুধু কবি নন, ছিলেন জাতির বিবেক। তাঁর কবিতা যেমন আত্মিক উজ্জীবনের অনুপ্রেরণা, তেমনি সাহসিকতা ও প্রতিবাদের প্রতীক। মুসলিম সমাজের আত্মমর্যাদা ও চেতনার পুনর্জাগরণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কবি ফররুখ আহমদ যে পথ দেখিয়েছেন আমরা সেই পথে এগিয়ে যাবো।
পাবনা সংস্কৃতিকেন্দ্রের সভাপতি এসএম সোহেল বলেন, সকাল ৮ টার দিকে কবি বন্দে আলী মিয়ার সমাধিস্থলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবর ফাতেহা পাঠ ও কবর যিয়ারত করা হয়েছে। এরপর সকাল ৯ টা থেকে কবি ফররুখ আহমদের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তিনি আলোচনায় বলেন, কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে অনেক সনেট লিখেছেন। যাকে আমরা সনেটের জনক বলি তার চেয়েও বেশি সনেট লিখেছেন আমাদের মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ। কর্মজীবনে তিনি অনেক সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চাকুরী জীবন সমাপ্ত করেছেন। তিনি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি বেতারে কাজ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যু হলে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে তাকে কবরস্থ করতে জায়গা দেওয়া হয়নি। ওইসব শাসকের জন্মই হয়েছিল ইসলামকে মাইনাস করার জন্য। কবি ফররুখ আহমেদ বাংলা সাহিত্যে ব্যাপক অবদান রাখলেও সাহিত্যের পাতায় তাকে স্থান দেওয়া হয়নি। এগুলো তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে। বুঝতে হবে কেন ফররুখ আহমদকে কবর দেওয়া জন্য সাড়ে ৩ হাত জায়গা হয়নি। সিলেবাসেও তেমন জায়গা দেওয়া হয়নি। এখন তাকে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান তিনে হবে। সিলেবাসে তাকে রাখা না হলেও সন্তানদের তাঁর সম্পর্কে জানাতে হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, খয়েরসূতি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শমসের আলম, পাবনা সংস্কৃতি কেন্দ্রর সহসভাপতি ওবায়দুর রহমান খান, পাবনা সংস্কৃতি কেন্দ্রর উপদেষ্টান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল কাদের প্রমুখ।
কবিতা আবৃত্তি করেন, রুহুল আমিন রিয়াজী, ইসলামী গান পরিবেশন করেন, আব্দুল মোমিন তারেক মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম, লোকমান হোসেন।