
কালের কণ্ঠের পাবনা প্রতিনিধি প্রবীর কুমার সাহার ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল ১১টায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হুদা শিথিলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সোহেল এবং অর্থ সম্পাদক মিন শাহরিয়ার নিলয়।
প্রেসক্লাবে সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘গতকালকে কালের কণ্ঠের পাবনা প্রতিনিধি প্রবীর সাহার ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে আমরা তাঁর নিন্দা জানাই। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবো এই হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনা হোক। আগামীদিনে পাবনা শহরের কোন সাংবাদিকের ওপর কেউ যেন হাত তুলতে না পারে সে ধরনের শাস্তি দেওয়া হোক’
সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোন সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা মানে সারাদেশের সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা। প্রবীর সাহার ওপর যে হামলা হয়েছে সেটি আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। আর তীব্র নিন্দা জানাই।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পাবিপ্রবি বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্রী তন্ময় কুমার, প্রচার সম্পাদক ফিজ্জুল মাহিন সহ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য : সোমবার (১ জুলাই) দুপুরে পাবনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে ও বাইরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক প্রবীর সাহার অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনে দুপুরের দিকে জেলা পরিষদে যান তিনি। সেখানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম সোহেল। এ সময় প্রবীর সাহা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন এবং জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম সোহেলের সঙ্গে কথা শেষ হলে তাকে ডাকতে বলেন।
তখন হঠাৎ করেই জেলা পরিষদ সদস্য সোহেল রাগান্বিত স্বরে প্রবীর সাহাকে বলেন, ‘হ্যাঁ আপনি কত বড় সাংবাদিক হয়েছেন, আমাকে বের হয়ে যতে বলেন। আপনি বের হয়ে যান।’ একপর্যায়ে প্রবীর সাহাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান তিনি। এ সময় চেঁচামেচি শুনে জেলা পরিষদে থাকা সোহেলের সমর্থকরা এসে প্রবীর সাহাকে শার্টের কলার ধরে কিলঘুষি মারতে থাকেন। পরে সেখানে থাকা জেলা পরিষদের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাইরে নিয়ে যান।