1. admin@dailypabna.com : admin :
  2. pgzgfidkua@auwbd.com : pavvabu0fl 5b9oqytxa1 : pavvabu0fl 5b9oqytxa1
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হেমায়েতপুরে বর্ষা মৌসুমে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙনের শঙ্কায় কৃষিজমি জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের পাবনার আহবায়ক আব্দুল্লাহ তন্ময়, সদস্য সচিব সাগর ‎ পাবনায় কবি ফররুখ আহমদ এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও কবিতা আসর হৃদরোগে আক্রান্ত সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান রাসেল; উন্নত চিকিৎসায় খাজা ইউনুস আলী মেডিকেলে, সবার কাছে দোয়া কামনা পাবনায় কবি বন্দে আলী মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ কর্মসূচি ‎ ফরিদপুরের মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় বেপরোয়া নিষিদ্ধ জালের সিন্ডিকেট পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দুইগ্রুপের সংঘর্ষ, বিএনপি কর্মী নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আব্দুল আলিম শিকদারকে সংবর্ধনায় সিক্ত করল গ্রামবাসী দাপুনিয়ায় তরুণীকে অপহরণের সাক্ষী দেওয়ায় বিরোধ, ৭ জনকে কুপিয়ে আহত সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক ‎

পাবনায় ৫ বন্ধুর চারজনকে একসঙ্গে দাফন, এলাকায় শোকের মাতম!

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০২৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতেদের মধ্যে একজনের বাড়ি ঈশ্বরদীর ভারইমারি এলাকায়। আর বাকি চারজনের বাড়ি দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে। একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুতে এ গ্রামে চলছে শোকের মাতম।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সকাল দুপুর ১২ টার দিকে ঈশ্বরদী হাইওয়ে থানা থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিকেল ৩ টার দিকে আজমপুর গ্রামের ডিগ্রিপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাযা নামাজ শেষে ওই কবরস্থান একই সঙ্গে দাফন করা হয়।

এর আগে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে দেখা যায়, মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছেন স্বজন ও গ্রামবাসীরা। পুরো গ্রাম স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠেছে। মরদেহ একনজর দেখতে বাড়িতে বাড়িতে হাজারো মানুষের ভীর করছে।

নিহত সিফাতের দাদা সোলাইমান প্রামাণিক বলেন, সিফাতের বাবা ২০১৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এরপর ওর মায়ের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর সে আমার বাড়িতে পালন পালন হয়েছে। ছেলের পর নাতির এমন মৃত্যুতে কষ্ট বেশি হচ্ছে। মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আল্লাহ যেন ওকে সুখে রাখে।

আজমপুর গ্রামের সোহরাব আলী বলেন, একই গ্রামের ৪ জনের একসঙ্গে মৃত্যু হয়েছে। এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। তাদেরকে একই জায়গায় দাফন করা হলো। নিহত পাঁচজনই বন্ধু ছিল। এদের চারজনের বাড়ি পাশাপাশি। এমন মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ নির্বাক। পুরো গ্রাম শোকের মাতম চলছে।

একই গ্রামের আব্দুল মতিন বলেন, এর আগে আমাদের অঞ্চলে একসঙ্গে চারজন মানুষ মারা যায়নি। এজন্য এ ঘটনায় আমরা খুবই হতবাক হয়েছি। সবাইকে ডিগ্রিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হলো।

নিহত জাহিদের বাবা রেজাউল ইসলাম বলেন, দুপুর থেকে সন্ধা পর্যন্ত ছেলে বাড়িতেই ছিল। রাত ৮ টার দিকে বন্ধুরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাদের মৃত্যুর খবর শুনতে পাই। দুর্ঘটাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই। আমি একদমই এতিম হয়ে গেলাম। চোখের সামনে ছেলের মরদেহ দেখতে পাওয়া বড়ই হতভাগা কপাল।

ঈশ্বরদী শহর থেকে আসছেন মুহা. আজমল হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, সকাল ঘুম থেকে উঠে শুনি আমাদের ঈশ্বরদীর ৫ জন তরুণ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। নিহতদের বাড়িতে একটু সান্ত্বনা দিতে আসছি। আসলে এ ঘটনা খুবই দু:খজনক।

নিহত জিহাদের মা চুমকি খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, শ্রমিকের কাজ করে ছেলেকে ভোকেশনালে পড়াশোনা করাই। কত কষ্ট করে তাকে মানুষ করতেছি। গতকাল সকালেও আমি তাকে ৫০ টাকা দিছি। আমার ছেলে খুবই মেধাবী ছিল। আজকে আমাকে এতিম বানিয়ে চলে গেলো। আমি কিভাবে এটা সহ্য করব?

ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বকুল সরদার বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে আজমপুর গ্রামের ৪ জনকে ডিগ্রি পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুতে ইউনিয়নজুরে শোকের ছায়া নেমে আসছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাস বলেন, ঘটনা জানতে পেরে আজ সকালে নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলাম। একসঙ্গে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা খুবই দু:খজনক। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

ঈশ্বরদীর পাকশি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের নিকট দেওয়ার দুপুর ১২ টার দিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের দাশুড়িয়া সুগার মিলের সামনে এ ঘটনা। নিহতরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলার গ্রামের ভারইমারি গ্রামের মাসুম হোসেনের ছেলে শিশির ইসলাম (১৮) এবং ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে শাওন হোসেন (১৮), কালিকাপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে জিহাদ হোসেন (১৭), আনোয়ার হোসেনের ছেলে বিজয় হোসেন (১৯), ইলিয়াস হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন (১৮)। নিহতদের মধ্যে চালক বিজয় হোসেন ছাড়া বাকি চারজন ঈশ্বরদী টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের ছাত্র। তিনজন নবম শ্রেণিতে পড়ত। আর একজন দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্বসংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক পাবনা
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park