
পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়ায় নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষ সহ ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (০৫ জুলাই) দুপুরে পাবনা সদর থানায় আফেদ আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরের দিকে ইউনিয়নের টিকরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- টিকরী গ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে জাফর আলী বিশ্বাস (৭০), আফেদ আলী বিশ্বাসের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬০), মকসেদ আলী বিশ্বাসের স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৪০), জাফর আলী বিশ্বাসের স্ত্রী ফুলি খাতুন (৫০)।
আসামীরা হলেন- টিকরী গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আফছার আলী মন্ডল (৬৫), আফছার আলীর ছেলে মোঃ মাহাতাব মন্ডল (৪৮), ইয়াসিন বিশ্বাসের ছেলে মোঃ মজিবর বিশ্বাস (৪৮), কানু বিশ্বাসের ছেলে মোঃ রান্টু বিশ্বাস (৩৩), আলেফ বিশ্বাসের ছেলে মোঃ হাকিম বিশ্বাস (৩৫), মনি প্রামানিকের ছেলে মোঃ রুমন প্রামানিক (২৩) ও মোঃ ইমন প্রামানিক (২৬), মৃত শুকুর প্রামাণিকের ছেলে মনি প্রামাণিক (৪৫), ইয়াসিন বিশ্বাসের ছেলে ইজিবর বিশ্বাস (৪৫), মৃত আমানত খাঁর ছেলে মোঃ ইশরাইল খাঁ (৪৫)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসীরা হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। জমি থেকে নিজ ইচ্ছায় সরে যেতে আল্টিমেটাম দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে একদল সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা করে। হাসুয়া, টাঙ্গি, লোহার হাতুরী, জিআইপাইপ, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এসে বাড়িতে ঢুকে হামলা করে তাদেরকে গুরুতর আহত করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় ৩ লক্ষাধিক নগদ টাকা লুটপাট করা হয়। এছাড়াও আলমারি ভেঙে স্বর্ণের গহনা লুটপাট করে নেওয়া হয়। যার মূল্য ৪ লাখ টাকা।
মামলার বাদী আফেদ আলী বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, অনেক আগে থেকেই জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলা সৃষ্টি হয়। আমরা পাবনা কোর্ট থেকে সব ধরনের রায় চার ভাই পক্ষে পেয়েছি। ওসি স্যারের নির্দেশনায় গত ৪ মাস আগে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেছি। ওখান থেকে উচ্ছেদ করতে আমাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ ঘটনায় আমরা ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতেছি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মামলায় নথিভুক্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।