
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করার পর সারাদেশে শুরু হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলনে গিয়ে সুজানগর বাজার থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সুজানগর উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি আজম বিশ্বাসকে। তৎকালীন সময়ে তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান খালেদা জিয়া। বেগম জিয়া এ ঘটনার প্রতিদান দেওয়ার আশ্বাস দেন। দলের কাছে নিজেকে ত্যাগী দাবি করে আগামী নির্বাচনে ৬৯ পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
আজম বিশ্বাসের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। এরপর ১৯৯৬ সালে সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে সুজানগর পৌর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে একটানা১০ বছর সুজানগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন জুলুম নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। একাধিক মিথ্যা মামলায় জেলও খেটেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের হাতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার হন তিনি। স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পলায়নের পর জেল খেটে তিনি জামিনে মুক্ত পান। ২০২১ সালের দিকে সুজানগরের একটি হত্যাকে কেন্দ্র করে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছি। পরে তিনি সহ পুরো পরিবার মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হন। পরিবার সহ জেলও খেটেছিলেন।
২০০৯ সালে হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি থেকে আওয়ামী সরকার জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তখন এই আন্দোলনে অংশ নিতে পাবনার সুজানগর বাজারে আসেন আজম বিশ্বাস। এ সময় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা চাপাতি দিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৩ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। খালেদা জিয়া দেখতে আসেন। এর প্রতিদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বেগম জিয়া। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সরকারি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সুজানগরের সাবেক এমপি সেলিম রেজা হাবিব, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন দাবিতে তিনি বিশাল বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন ও সমাবেশ করে বেড়াচ্ছে। রাতদিন তিনি গণসংযোগে সময় পার করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সুজানগর উপজেলা বিএনপি’র তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা জানান, ১৭ বছরে আন্দোলন সংগ্রামে আজম আলী বিশ্বাস ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদাপদে সর্বদা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলে থানায় ছুটে যেতেন তিনি এবং আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন।এছাড়াও তিনি দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনে তাকে আমরা পাবনা- ২ আসনের সংসদ সদস্য পদে দেখতে চাই। তিনি যদি ধানের শীষের পান তাহলে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হবেন।বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করবেন।
তারা আরও বলেন, যারা এতদিন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সব সময় ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নেই কোন সম্পর্ক। দলের বিপদের সময় এলাকায় থাকেননি এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। এমন কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি তাদের।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম আলী বিশ্বাস বলেন,
আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনে সুজানগর বাজারে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে গুরুতর আহত করেছিল, তখন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকাকালীন সময়ে, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন এর প্রতিদান আপনি পাবেন। এছাড়াও আমার বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আ.লীগ সন্ত্রাসীরা পুড়িয়ে দিয়েছিল, আমাকে মিথ্যা হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। একাধিক বার কারাবরণ করেছি। দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে সবসময় পাশে থেকেছি। এই জন্যই দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমাকে পাবনা – ২ আসনে এমপি হিসেবে পেতে চায়।
তিনি আরো বলেন, আমরা আর কি নির্যাতিত হয়েছি, সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন, আমাদের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে নির্যাতন করে মেরুদন্ডের হাড় পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অবশেষে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনাব তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে এই দলের হাল ধরেছেন।তার দিকনির্দেশনা মেনে দলীয় নেতাকর্মীরা আজ ঐক্যবদ্ধ। জনাব কোকোকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে।
আমরাও নির্যাতিত তাই দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান কে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি, নিজে নির্যাতিত হয়েছি, আমার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, মিথ্যা হত্যা মামলার আসামি করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রেখেছি। এখন আমাদের সামনে সুসময় এই জন্যই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। দলের হাই কমান্ডের নেতৃবৃন্দ কে বলতে চাই, সবদিক বিচার বিশ্লেষণ করে আমাকে পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য হিসাবে মনোনয়ন দিবেন বলে আশা করছি।