1. admin@dailypabna.com : admin :
  2. pgzgfidkua@auwbd.com : pavvabu0fl 5b9oqytxa1 : pavvabu0fl 5b9oqytxa1
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হেমায়েতপুরে বর্ষা মৌসুমে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙনের শঙ্কায় কৃষিজমি জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের পাবনার আহবায়ক আব্দুল্লাহ তন্ময়, সদস্য সচিব সাগর ‎ পাবনায় কবি ফররুখ আহমদ এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও কবিতা আসর হৃদরোগে আক্রান্ত সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান রাসেল; উন্নত চিকিৎসায় খাজা ইউনুস আলী মেডিকেলে, সবার কাছে দোয়া কামনা পাবনায় কবি বন্দে আলী মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ কর্মসূচি ‎ ফরিদপুরের মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় বেপরোয়া নিষিদ্ধ জালের সিন্ডিকেট পাবনায় নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে দুইগ্রুপের সংঘর্ষ, বিএনপি কর্মী নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আব্দুল আলিম শিকদারকে সংবর্ধনায় সিক্ত করল গ্রামবাসী দাপুনিয়ায় তরুণীকে অপহরণের সাক্ষী দেওয়ায় বিরোধ, ৭ জনকে কুপিয়ে আহত সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক ‎

ফরিদপুরের মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় বেপরোয়া নিষিদ্ধ জালের সিন্ডিকেট

দৈনিক পাবনা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় দেশীয় মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের মূল হাতিয়ার নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের উৎপাদন ও দেশব্যাপী পাচারের রমরমা কারবার চলছে। উপজেলার ডেমরা ইউনিয়ন এখন এই নিষিদ্ধ জালের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে প্রায় প্রতিদিনই বড় বড় ট্রাক যোগে এই অবৈধ জাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, এই জালের মূল কারখানাগুলো গোড়াতেই বন্ধ করা সম্ভব হলে দেশব্যাপী এর সরবরাহ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব।

অথচ সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সির চরম উদাসীনতা, নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মৎস্য কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক নীরবতায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে দেশীয় মৎস্য ও জলজ জীববৈচিত্র্য, যার ফলে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে স্থানীয় জনমনে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডেমরা ইউনিয়নের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদিত এই সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকারক জাল মাছের রেণু, পোনা থেকে শুরু করে যেকোনো জলজ প্রাণীকে ছেঁকে তুলে নিয়ে আসছে। এই কারখানাগুলো চালু থাকায় দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়েছে।

এই নিষিদ্ধ জাল অত্যন্ত সুকৌশলে গভীর রাতে বড় বড় ট্রাকে লোড করে সড়কপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করা হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ কারখানা সিলগালা করার প্রধান দায়িত্ব যেখানে মৎস্য বিভাগের, সেখানে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সি সম্পূর্ণ হাত গুটিয়ে বসে আছেন। তার দপ্তর থেকে কখনো এসব কারখানায় তদারকি করা হয়নি, এমনকি পাচার রুখতে কোনো চেকপোস্ট বসানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। জনমনে এখন সোচ্চার প্রশ্ন—মৎস্য কর্মকর্তার কাজ কি শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে থেকে মাস শেষে সরকারি বেতন তোলা? কেন তিনি নিজ উদ্যোগে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না?

মৎস্য দপ্তরের এমন চরম ব্যর্থতার বিপরীতে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর উপজেলা প্রশাসন। মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে কোনো ধরনের আগাম তথ্য বা সহযোগিতা না পাওয়া সত্ত্বেও, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমির) অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব সোর্স এবং স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে চলেছেন।

উপজেলা প্রশাসনের এই প্রশংসনীয় তৎপরতার কারণে প্রায়শই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনের এই বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ জালের চালান জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা না থাকলে ফরিদপুর এতদিনে পুরোপুরি নিষিদ্ধ জালের অভয়ারণ্যে পরিণত হতো।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, যে অভিযান ও তদারকি মৎস্য কর্মকর্তার নিজ উদ্যোগে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে করার কথা ছিল, সেখানে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয়।

তার এই চরম দায়িত্বহীনতার কারণে উপজেলা প্রশাসনকে মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে বাড়তি চাপ ও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা অবিলম্বে ডেমরা ইউনিয়নসহ উপজেলার সকল নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের কারখানা চিরতরে বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের আরও কঠোর ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে, সরকারি দায়িত্ব অবহেলা করে দেশীয় মৎস্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া নিষ্ক্রিয় মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সির বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

বক্তব্য জানতে ফোন দেওয়া হলে ফরিদপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সি রিসিভ করেননি। এজন্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্বসংরক্ষিত © ২০২৪ দৈনিক পাবনা
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park