
এক মাস আগে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেন সাজেদুল ইসলাম (২১) ও রিয়া খাতুন (১৯)। এবিয়ে ছেলের পরিবার এ বিয়ে মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার মেনে নেননি। একমাস স্বামীর বাড়িতেই ছিলেন রিয়া। গত রবিবার রিয়ার এক আত্মীয় সাজেদুলের বাড়িতে গিয়ে রিয়া ও সাজেদুলকে কটুক্তিমূলক ও অশালীন ভাষায় নানান কথা বলেন। এতে অপমানবোধ করেন সাজেদুল ও রিয়া। এরপর তারা একসঙ্গে বিষপান করেন। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর রিয়ার মৃত্যু হয়। সাজেদুল এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। রিয়া সাহাপুর গ্রামের আজিজলতলা এলাকার লেরু মোল্লার মেয়ে। আর সাজেদুল চরগড়গড়ি গ্রামের আজতব আলীর ছেলে।
সাজেদুলের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, গত রোববার দুপুরে রিয়ার চাচার শাশুড়ি ভানু বেগম (রিয়ার সম্পর্কে নানী হয়) ভানু বেগম সাজেদুলের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি ভালোবাসার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে রিয়াকে নানা কটূক্তিমূলক কথা বলেন এবং থুতু ফেলে বিদ্রুপ করেন। সাজেদুল বাড়ি ফেরার পর এ বিষয়টি জানিয়ে রিয়া কান্নাকাটি করেন। অপমানে আবেগতাড়িত হয়ে দু’জনে একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। সাজেদুল দোকান থেকে দুই বোতল কীটনাশক কিনে এনে দু’জনেই তা পান করেন।
পরিবারে লোকজন টের পেয়ে তাদের প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবণতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই রোববারে রিয়ার মৃত্যু হয়। সাজেদুল আশংকাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাজেদুলের বাবা আজতব প্রামানিক বলেন, রোববার সকালে আমি মাঠে কাজে যাই। আমার স্ত্রী অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যায়। এই ফাঁকে এসব ঘটনা ঘটে গেছে। রিয়াতো মারা গেছে এখন সাজেদুলের অবস্থাও ভালো না।
ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। এ খবর জানার পর থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।